অনলাইনে টাকা আয় করার ৫টি উপায়: অনলাইন ইনকাম এর সুবিধা

বর্তমান সময়ে সবাই অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে বসে টাকা আয় করতে চায়। বিশেষত স্টুডেন্টরা অনলাইন ইনকাম বা অনলাইন পার্ট টাইম জব সার্চ করতেই থাকে গুগুলে। এবং এই সময়ে সব কিছু কাজই অনলাইনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। আর্ন মানি অনলাইন এই লাইনটি বর্তমানে ইন্টারনেটে প্রত্যেকদিন লক্ষ্য লক্ষ্য বার সার্চ করা হয়। আপনিও যদি চাইছেন অনলাইনের মাধ্যমে কিছু করে টাকা যায় করতে তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। অনলাইনে কাজ করার একাধিক সুবিধা রয়েছে, আর ঠিক এই কারনেই সবার জন্যই এটা খুব ইন্টারেষ্টিং একটি বিষয়। আজকে অনলাইন আর্নিং নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করবো, এর সুবিধা এবং অসুবিধা সমস্ত কিছুতেই আপনারা এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন। সুতরাং, অনলাইন টাকা যায় করার জন্য এবং সাবধান থাকার বিষয় গুলো পুরোপুরি জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন, এবং ভালো লাগলে অবশ্যই একটা কমেন্ট করুন।

অনলাইন ইনকাম এর সুবিধা

অনলাইন ইনকাম এর বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে, ঠিক এই কারণেই সবাই এই কাজ করে আয় করতে চায়। অনলাইন ইনকাম এর জন্য আপনাকে অবশ্যই কোনো না কোনো ভাবে স্কিলফুল হতে হবে। কোনো একটি বিষয়ে আপনার বিশেষ দক্ষতা থাকা দরকার, তা নহলে খুব সহজে আপনি কোনো কাজ পাবেন না। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইন ইনকাম করার বিশেষ সুবিধা গুলো কি কি :

  • ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক ফেসিলিটি, অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা এবং সময় অনুযায়ী আপনি কাজ করতে পারবেন, কারো দেওয়া টাইমে অনুযায়ী আপনাকে কাজ করতে হবে না।
  • ১৮+ স্টুডেন্ট যারা, তাদের দিনের বিভিন্ন সময় কলেজ, টিউশন বিভিন্ন কাজ থেকে থাকে, তাই অন্য কোনো কাজে ফুল টাইম ভাবে করে টাকা ইনকাম করা এক-কথায় অসম্ভব বলা যায়, তাই স্টুডেন্টদের জন্য অনলাইন ইনকাম খুবই হেল্পফুল একটি বিষয়।
  • যেকোনো জায়গায় থেকে আপনি এই কাজ করতে পারবেন, শুধু একটা ভালো ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই হলো।
  • বিভিন্ন কাজের মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ মতো কাজটি আপনি বেছে নিতে পারেন। একসঙ্গে একাধিক কাজ নিতে পারা এবং কম সময়ের জন্যও কাজ পাওয়া।
  • নিজের দক্ষতা এবং পরিশ্রম এর উপর নির্ভর করে আয়ের সুযোক। ফুল টাইম জবের থেকেও বেশি পরিমানে টাকা আয় করার সুযোক থাকে। বিভিন্ন আয়ের উৎস তৈরি করার সুযোক থাকে।

অনলাইন ইনকাম এর অসুবিধা

যেকনো জিনিসের সুবিধার সাথে সাথে অসুবিধা থাকাটাও খুবই স্বাভাবিক। আমরা এখন জেনে নেবো যে অনলাইন ইনকাম করার সমায় আমাদের কি কি অসুবিধা হতে পারে বা আমরা কি কি সমস্যায় পড়তে পারি।

  • যেহেতু আমরা সবাই জানি যে বর্তমানে সবাই অনলাইন ইনকাম করতে চায় সেহেতু এই ফিল্ডে কম্পিটিশন এর পরিমান তা খুব বেশি।
  • অনলাইন ইনকাম এর পরিমান সবসময় নিয়মিত হয় না, কাজের পরিমান অনুযায়ী ইনকাম কম বেশি হতে পারে।
  • বর্তমানে অনলাইন প্রতারনার সম্ভবনা খুবই বেশি থাকে সেহেতু যদি আপনি খুব সাবধান না থাকেন বা সাবধানতার সঠিক উপায়গুলি না জেনে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনিও অনলাইন প্রতারণার স্বীকার হতে পারেন।
  • কাজের পরিমান বেশি থাকলে অনেক সময় ধরে স্ক্রিনের সামনে বসে থাকতে হতে পারে সেক্ষত্রে চোখের সমস্যা হতে পারে।

যেহেতু অনলাইন ইনকাম করাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য সেহেতু অনলাইন প্রতারণার ব্যাপারটা কে লক্ষ্য রেখে বাকি অসুবিধা গুলো আমাদের উপেক্ষা করতে হবে, কারণ বাকি অসুবিধা গুলো ইনকাম শুরু হওয়ার পরে দেখা যেতে পারে। আপাতত সুবিধার কথাগুলো ভেবেই আমাদের স্টেপ নিতে হবে এবং কাজ শুরু করতে হবে।

সেরা ৫ টি উপায় অনলাইন ইনকাম করার

অনলাইন ইনকাম এর বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধা গুলো আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। অনলাইন ইনকাম এর অনেক অনেক উপায় রয়েছে, যা একটি আর্টিকেলে লেখাটা অসম্ভব তাই আমরা কিছু বিশেষ টপিক নিয়েই আলোচনা করবো। তো চলুন জেনে নিও যাক অনলাইন ইনকামের সেরা ১০ টি উপায়

১) ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়

ফ্রিল্যান্সিং অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্টানের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে বিভিন্ন ক্লাইন্টকে রিচ আউট করে তাদের থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রজেক্ট নেওয়া এবং সময়ের মধ্যে প্রজেক্ট বা কাজটি সম্পন্ন করা, এবং সম্পন্ন করার পর বা আগে কিছু অ্যাডভান্স এবং কাজ শেষ হওয়ার পরে পুরো টাকা পেমেন্ট, এভাবেই ফ্রিল্যান্সার রা কাজ করে থাকে। তবে মাথায় রাখবেন যতদিন না আপনি খুব স্কিলফুল বা বিস্বস্ত একজন ফ্রীলান্সার হচ্ছেন ততদিন কেউ আপনাকে কাজের আগে টাকা দিতে চাইবে না।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন স্কিল যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, কপি রাইটিং, ইত্যাদি যেকোনো স্কিল যা কিনা অনলাইনের মাধ্যমে আদান প্রদান করা যায়, আপনার মধ্যে থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করার কিছু পপুলার প্লাটফর্ম গুলি হল : up work, fiver, people per hour, ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং করার বিশেষ কিছু টিপস

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রফেশন এর মানুষ ফ্রীলান্সিং করছেন এক্সট্রা টাইম কাজে লাগিয়ে, অনলাইন ইনকাম করার জন্য তাই এই ফিল্ডটি সবথেকে বেশি কম্পেটিটিভ, ঠিক এই কারনে যাতে আপনি এই কম্পেটিশন এর ভিড় এড়িয়ে তাড়াতাড়ি নিজের প্রথম ক্লাইন্ট পেতে চান আপনাকে অবশ্যই এমন কিছু উপায় ফলো করতে হবে। কিছু উপায় যেমন:

  • উপরে দেওয়া প্লাটফর্ম এবং আরোও বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করুন এবং ফ্রি তে যতগুলো গিগ থাকে সেগুলা পুরন করুন।
  • চেষ্টা করুন এই প্লাটফর্ম গুলো ছাড়া লিঙ্কডিন ব্যবহার করে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন নতুন স্টার্টআপ এর ফাউন্ডার বা ম্যানেজার দের রিচ আউট করে প্রথম ক্লাইন্ট বুক করার।
  • নিজের একটা ভালো মতো রেসুমে বা সিভি বানিয়ে রাখুন।
  • চেষ্টা করুন প্রত্যেকদিন মিনিমাম ১০-১৫ টি ক্লায়েন্ট রিচ আউট করার, কোল্ড এ-মেইল এর মাধ্যমে।
  • প্রথম ক্লায়েন্ট এর কাজ শেষ করার সাথে সাথেই রিভিউ নিন, এবং নিজের একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করুন।
  • অনেকদিন ধরে ক্লাইন্ট না পেলে কিছুজন দের ফ্রীতে কাজ করে দিন এবং রিভিউ নিন, যাতে একটা ভালো মানের পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন।

২) ব্লগিং থেকে আয়

ব্লগিং হল এক ধরণের ওয়েবসাইট যেখানে আপনি নিজের পছন্দ মতো যেকোনো বিষয়ে, যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান আছে বা অভিজ্ঞতা আছে এবং সবথেকে বড় কথা হচ্ছে আপনি আপনার জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারেন। সোজা ভাবে বললে আপনি যদি এখন এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, আপনি যেভাবে এই আর্টিকেলে এসে পৌঁছেছেন ঠিক একইভাবে আপনি লিখলে আপনার লেখাও কেউ না কেউ সার্চ করে পড়বে এবং যখনি আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিভ বাড়বে তখন আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন, এরপর এডসেন্স এপ্প্রুভড হলে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন দেখাবে এবং আপনি ওই বিজ্ঞাপন এর প্রতি ক্লিক থেকে যায় করতে পারবেন।

ব্লগিং করার জন্য মূলত দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয় : ডোমেইন এবং হোস্টিং

৩) ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউব সম্পর্কে বেশিকিছু বলার নেই আশা করি আপনারা সবাই ইউটিউবের সঙ্গে পরিচিত। আপনি যদি ক্যামেরা দেখে কিছু বলার মতো সাহস রাখেন এবং অত্যন্ত জরুরি আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো স্কিল থাকে সেক্ষেত্রে আপনি চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষকে ওই বিষয়ে শেখাতে পারবেন। এছাড়াও যদি আপনি ক্যামেরা ফেস করতে না পারেন সেক্ষত্রেও বিভিন্ন ভাবে অ্যানিমেশন, এ-আই ক্যারেক্টার বা বিভিন্ন ফটোর ব্যবহার করে নিজের ভয়েস ওভার দিয়ে চ্যানেল গ্রো করতে পারবেন। যদি আপনার কোনো বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান না থাকে সেক্ষেত্রে আপনি লাইফস্টাইল ভ্লগ চ্যানেল খুলে ভিডিও পোস্ট করতে পারেন। ইউটিউবের রেভিনিউ পদ্ধতিটি ঠিক ওপরের ব্লগিং পক্রিয়ার মতোই।

৪) অনলাইন কোর্স তৈরি

কোনো যদি কোনো বিষয়ে যোগ্যতা এবং দক্ষতার দিক দিয়ে খুবই পারদর্শী হয়ে থাকেন সেক্ষত্রে আপনি একটি অনলাইন রেকর্ডেড কোর্স লঞ্চ করতে পারেন। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা সকলেই ব্যবহার করে থাকি, একবার ভেবে দেখুন সারাদিনে কত ধরণের কোর্সের বিজ্ঞাপন আসে আপনার ফোন এ। বড় বড় ইউটিউবার যাদের খুব বড় অডিয়েন্স বেস রয়েছে, বিভিন্ন ধরণের কোর্স লঞ্চ করে কোটি কোটি টাকা যায় করছেন। আপনিও করতে পারবেন, কয়েকটি স্টেপস ফলো করে। আপনি যদি কোর্স তৈরি করতে ইন্টারেস্টেড হন প্রথমে আপনাকে কিছু ভিডিও রেকর্ডেড ক্লাস বানাতে হবে এরপর সমস্ত ভিডিও গুলো একটি ওয়েবসাইটে লিস্টেড করতে হবে, এরপর যদি আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে থাকে সেক্ষেত্রে প্রথমত আপনাকে আপনার অর্গানিক অডিয়েন্স দের মাঝে কোর্সটি প্রোমোটে করতে হবে এবং যদি আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনো ফলোয়ার্স না থেকে থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন ডিজিটাল এড এর মাধ্যমে প্রোমোটে করতে হবে।

৫) ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রত্যেকটি ছোট থেকে ছোট বিজনেস থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সের, কোর্স ক্রিয়েটর, বিভিন্ন স্টার্ট আপ যেকোনো ভাবে ব্যবহার করেই থাকে। ডিজিটাল মার্কেটিং কোনো একটি স্কিল নয়, এর মধ্যে অনেকগুলি স্কিল আছে এবং আপনি যদি এর মধ্যে কোনো একটিতে খুব ভালো দক্ষ হন, আপনি অনেক অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন স্কিল গুলি হল : ফেসবুক অ্যাডস, গুগল অ্যাডস, ইনস্টাগ্রাম অ্যাডস, কপি রাইটিং, ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডিং, ওয়েবসাইটে ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ইত্যাদি।

উপসংহার

আশাকরি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য খুবই হেল্পফুল হবে। অনলাইন ইনকাম করার জন্য আপনার ধৈর্য্য রেখে ক্লায়েন্ট রিচ আউট করা, বিভিন্ন প্লাটফর্মে এক্টিভ থাকা, নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাবে আপডেট করা, নিজের দক্ষতার ওপর বেশি বেশি করে কাজ করা এসব খুবই প্রয়োজন। যদি আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন এবং কোনো বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

ফ্রিল্যান্সিং করার বিশেষ কিছু স্কিল গুলি কী কী ?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বিভিন্ন স্কিল যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, কপি রাইটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিশেষ কিছু স্কিল গুলি কী কী ?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন স্কিল গুলি হল : ফেসবুক অ্যাডস, গুগল অ্যাডস, ইনস্টাগ্রাম অ্যাডস, কপি রাইটিং, ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডিং, ওয়েবসাইটে ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ইত্যাদি।

ব্লগিং করার জন্য কী কী প্রয়োজন?

ব্লগিং করার জন্য মূলত দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয় : ডোমেইন এবং হোস্টিং

Leave a Comment